Sunday, July 28, 2019

Berlin to Paris

Happy Holidays 2016

বার্লিন, 2016.12. 24
আমি সম্প্রতি খ্রীষ্টমাস এর  ছুটির সময় ব্যাকপ্যাকিঙ এর মতো করে  ইউরোপ ভ্রমণ শুরু করেছি। ২০১৫-১৬ এর খ্রীষ্টমাস নিউ ইয়ার এ আমি মিউনিখ, ভিয়েনা, ব্রাতিস্লাভা, বুদাপেস্টের বিখ্যাত ট্রেইল টা  করলাম।  প্ল্যান টা একাকী ভ্রমণ এর ই ছিলো; কিন্তু, সম্পূর্ণ একাকী ছিলোনা কারণ আমার বন্ধুরা প্রায় সব বড় ও বিখ্যাত শহরগুলিতে বসবাস করছে, তাই আমি সহজেই তাদের সাথে দেখা করতে পারি এবং তাদের বাসায়  থাকতেও পারি। এটা হচ্ছে  ২০১৬-১৭ এর খ্রীষ্টমাস নিউ ইয়ার এর কথা। আমি মিউনিখ - বার্লিন-বেলজিয়াম-প্যারিস এই রুট টা তে ছিলাম। ওই বছর খ্রীষ্ট মাস বার্লিন এ কাটালাম।  আর খ্রীষ্টমাস এক জার্মান পরিবার এর সাথে মানালাম। সে এক অপূর্ব কাহিনী। তাই দিয়ে শুরু করি।
Christmas decoration at home
২৪ শে ডিসেম্বর এ সন্ধ্যা ৫ টার দিকে ক্রিসমাস ইভ ছিল, তিনজন ভারতীয় বার্লিনের ব্যস্ত রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল, যেটি সেই বিশেষ সন্ধ্যায় ব্যস্ত ছিল না; সেটা এতটা লোকহীন ছিল যে বার্লিন এর লোকেরা এটাকে মরুভূমি বলে ব্যাখ্যা দিয়েছিলো। একজন স্থানীয় ভদ্রলোক তার প্রকৃতির অস্বাভাবিকতা খুঁজে পেয়েছিলেন এবং সেই তিনজন ভারতীয়কে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে তিনি তাদের সাহায্য করতে পারেন কিনা, সেসব ভারতীয়দের অংশ হিসাবে আমি ভাবছিলাম যে আমরা মনে করতাম যে আমরা কিছু অপ্রত্যাশিত কাজ করার পরিকল্পনা করছি নাকি তিনি ভেবেছিলেন আমরা ভয়াবহ ছিলাম। কষ্ট। আমি তার পরে সঠিক প্রতিক্রিয়া ছিল হতবাক । যাইহোক, তার প্রতিক্রিয়া, তারা সবাই একসঙ্গে জবাব দিলেন, না, তারা কোন উপহারের দোকানের খুঁজছিলো, আসলেই কোন সাহায্যের প্রয়োজন ছিল না। সেই
মানুষ সম্পূর্ণ বিস্মিত এবং বিভ্রান্ত হয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বললেন,  তিনি এই বিষয়ে আমাদের সাহায্য করতে পারেন না।
ওই তিনজন ভারতীয় দলের ছোট্ট সদস্যা দিল্লির মেয়ে অনন্যা, prebachelor ছাত্রী,  আমাদের বলেছিল যে, সেই সময়ে ভারতের একটি উপহারের দোকানের নাম গুরু খোলা আছে। এই ঠিকানায় পৌঁছে দেখলাম সেটা তো বন্ধই তার অ্যাশ পাশে সব দোকান ই বন্ধ।

Santa is distributing the gifts
আমরা চিন্তিত হয়ে পড়লাম আমরা ওই জার্মান পারিবারের বাড়িতে পৌঁছাতে পারবো কিনা, যদি কোনো গিফট না পাই তালে যাওয়াটা আর হবে না।  এখানে খ্রীষ্টমাস গিফট টা খুব জরুরি খ্রীষ্টমাস ইভে ডিনারএ যাওয়ার জন্য। সব দোষটা আমাদের ছিলোনা, কারণ আমরা নেমন্তন্নও টা পেয়েছিলাম ঐদিন সকালেই। আগে কিনে রাখার কথা আমাদের মাথায় ছিলোনা।

আমি জানিনা আমার মাথায় কী এসেছিলো, আমি তাদের বললাম, আচ্ছা, তোমরা যদি গিফট কিনতে চাও তালে আমাকে অনুসরণ কারো। 😉 ...।

এমনকি যদি আমরা একটি উপহারের বিকল্পটি বাদ দিয়ে থাকি, তবে আমাদের আধঘন্টার মধ্যেই ভারতীয় খাবার পেতে হবে। তাই আমি খাবারের দোকান  খুঁজছিলাম এবং সবচেয়ে কাছের ভারতীয় রেস্তোরাঁ "অবীরাম" চব্বিশ ঘন্টা খোলা থাকার কথা বলেছিল।

তাই, আমি গুগল navigation এর সাহায্যে আবিরামকে খুঁজে বের করে ভীষণ উত্তেজিত ছিলাম, এবং দুই মেয়েরা আক্ষরিক অর্থে আমার পিছনে ছিল চলছিল,  তারা জিজ্ঞেস করছিল যে আমরা কোথায় যাচ্ছি ... অবিরাম এর পথে পথে আমি দেখেছি রেস্টুরেন্ট তিব্বত হাউস .. খুব সুন্দরভাবে সজ্জিত এবং অনেক মানুষ সেখানে খাওয়া দাওয়া করছিলো। আমি এটা মনে রাখলাম কারণ এটি একটি বিকল্প হতে হবে। আমরা যখন ভারতীয় রেস্টুরেন্ট আবিরামের সামনে পৌঁছলাম, সেখানে দেখলাম অবিরাম ও বন্ধ যা পুরোপুরি প্রত্যাশিত ছিল, যা আরো হতাশা যোগ করে। আমি খুবই দুঃখী ছিলাম, দুঃখের কারণ হলো জার্মান পরিবারের সাথে এই ক্রিসমাসের ডিনারটি না করতে পারার ভাবনা মাথায় ঘুরঘুর করছিলো। ইটা আমার প্রথম নিমন্ত্রণ একটা জার্মান পরিবারের থেকে তাদের সাথে খ্রীষ্টমাস সেলিব্রেট করার। এবং সেটা যদি না করতে পারি তালে খুব খারাপ লাগবে।

এই নেমন্ত্রনটা আসলে অনন্যা পেয়েছিলো , আমি পাইনি, যদিও আমি couchsurfing , ebay  এবং আরো অনেক জায়গাতে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলাম একটি জার্মান পরিবারের সাথে উদযাপন করার আমন্ত্রণ পাওয়ার প্রত্যাশায়। যদিও সেটা ব্যর্থ প্রয়াস!  আমি কোন প্রতিক্রিয়া পাইনি কিন্তু আননিয়া, ভাগ্যবান চ্যাপ, এটা পেয়েছিলাম এবং সে আমাকে ও নেহাকে এই ক্রিসমাসের ডিনারে যোগ দেওয়ার জন্য অন্তর্ভুক্ত করেছে। গতবার, ২014 সালে, আমাকে মিউনিখে আমার বাড়িওয়ালা পরিবারের সাথে এটি উদযাপন করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, কিন্তু সেই সময় আমি জার্মানিতে সত্যিই নতুন ছিলাম এবং উপহার কিনে নিই, যা এই ক্রিসমাসের ডিনারের সময় অবশ্যই করতে হবে আমি পরে জানতে পারলাম, ক্রিসমাসের আগেও জানতাম না, সব দোকান বন্ধ হয়ে যাবে! তাই, আমি আগের ক্রিসমাসের ডিনারে যোগ দিতে পারিনি, তাই অসমর্থতা আমার উপস্থিতিতে আমাকে খুবই বিরক্ত করেছিল।

তাই, আমরা যখন আবিরামকে বন্ধ দেখলাম, তখন আমি তিব্বত হাউসে ফেরার পথে তিব্বত হাউস সম্পর্কে তাদের মনে করিয়ে দিয়েছিলাম, অনানিয়া ভারতীয় খাবারের সাথে এক সাইনবোর্ড দেখেছিল এবং নৃত্য শুরু করেছিল ... এবং আমরা রেস্টুরেন্টে ঢুকলাম এবং একজন ভারতীয় বা দক্ষিণ এশীয় লোক দেখতে পেলাম একটা টেবিলে বসেছিল আর হাসছিলো !
আমরা তাকে খাবারের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, এবং তিনি বলেন, হ্যাঁ তিনি আমাদের জন্য খাদ্য তৈরি করতে পারেন এবং এটিও প্যাক করতে পারেন।

 এই দুইজন যখন মালাই কফ্টা এবং পালক পনীর  আর রুটি এর  অর্ডার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আমি একজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলাম যে কি কোন উপহার হিসাবে আমাদের কিছু সরবরাহ করতে পারেন কিনা, তিনি হাসিখুশি হাসছিলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন আমরা কি তার রান্নাঘর কিনতে চাই কিনা।

Old Market Square, Potsdam
যখন তারা রেস্টুরেন্টের ভিতরে ছিল এবং খাবার প্রস্তুত করার জন্য অপেক্ষা করছিল তখন আমি ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম এবং উপহার হিসাবে কী ব্যবহার করা যেতে পারে তা নিয়ে ভাবছিলাম ... আমিও দেখেছিলাম যে তিব্বত হাউস খুব ঘনিষ্ঠ ছিল, কিন্তু একা একা প্রবেশ করার সাহস পাইনি ।

আমি রেস্টুরেন্টের সামনে দেখলাম বইয়ের একটা ব্যাগ আছে। আমি বুঝতে পারছি না কেন মানুষ এটা রেখেছে, সেখানেও.  আমি দেখেছি কিছু লোক পকেটের অভ্যন্তরে কি অদ্ভুতভাবে তাকিয়ে আছে।


আমি কোন আকর্ষণীয় জিনিস খুঁজে পাইনি। আমি রেস্টুরেন্টে ফিরে এলাম এবং লোকটিকে উপহার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, ও বলল, ঠিক আছে ভিতরে আমাকে দেখতে দাও, এবং একটি ভারতীয় মা এবং তার পুত্রের কালো ও সাদা একটি ফ্রেমড ছবির সাথে বেরিয়ে এলো । আমরা তিনজনে, এক নজরে পরে এবং একে অপরের দিকে তাকিয়ে পরে আমরা বলেন, 'না ধন্যবাদ'।
Sanssouci Palace in Potsdam
খাবার এর  দোকান থেকে বেরিয়ে আমরা তিনজন তিব্বত হাউস এ ঢুকলাম,
আমরা একসঙ্গে তিনজনকে জিজ্ঞেস করলাম আমরা সেখানে খাবার থাকার আগ্রহী নই কিন্তু আমরা আমাদের সম্ভাব্য জার্মান হোস্টের জন্য ক্রিসমাসের উপহার 🎁 খুঁজছিলাম। বুড়ো লোক, যে দোকান বা রেস্টুরেন্টের মালিক, জিজ্ঞেস করে  আমরা কোন ধরণের উপহার খুঁজছি। তারপর তিনি আমাদের ভারতীয় ট্রেজারিগুলি, যা ভারতীয়  হাস্যময় বুদ্ধ, ওম চিহ্ন এবং শিব পরিবার ইত্যাদি ইত্যাদির মতো তার ট্রেজারি দেখায়। এবং তিনি আমাদের কাছে ব্যাখ্যা করার মতো যথেষ্ট দয়া করেছিলেন যে এই জিনিসগুলি এখানে লোকেদের কাছে সত্যিই আকর্ষণীয়। বিশেষত, শিব পরিবারের মতো এটি পরিবারকে এখানে একটি শক্তিশালী ইত্যাদি দেয় তবে আমাদের সময় সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করে এবং এটি খুব ধর্মীয় হতে পারে আমরা শিবের পারিবারিক ভাস্কর্য গ্রহণ করি নি বরং আমরা ওম ও তার কাছ থেকে কিছু মিষ্টি খাবার গ্রহণ করি। আমরা এই সব প্যাক পেয়েছিলাম, তাকে অতিরিক্ত কিছু টাকা দিয়েছিলাম এবং ইন্দো সিঙ্গাপুরের লোক থেকে খাবার সংগ্রহ করলাম এবং একটি ট্যাক্সিে আশা করি। এদিকে, অনানিয়া তাদের কাছ থেকে বার্তাগুলি ক্রমাগত পেয়েছিল এবং তারা আমাদের জানিয়েছিল যে, বাচ্চাদের উপহারের উদ্বোধনের জন্য অপেক্ষা করার সময় আমাদের তাড়াতাড়ি করতে হবে, যা সাধারণত অতিথিদের উপস্থিতিতে ঘটে। নির্দেশিত ট্যাক্সি সময় আমাদের হোস্ট এর বাড়িতে, ঠিক সময়। প্রথম জিনিস, আমি লক্ষ্য করেছি, অ্যাপার্টমেন্টের সজ্জিত গেট ছিল। ঘরে ঢুকলার পরে তার দেরী ত্রিশের দশকের বা ত্রিশের দশকের প্রথম সুন্দর সুন্দরী মহিলা উঠে এসে জার্মান কথা বলছিলেন, তখন বুঝতে পারলেন যে কেন আমাকে আগে কখনো আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, কিন্তু এই ছোট্ট মেয়েটি এটা করতে পেরেছিল কারণ সে পোস্ট করছিল এবং জার্মানিতে কথোপকথন এবং আমি ইংরেজীতে এই কাজ করছিলাম। language matters!
Berliner Dome, long exposure
আমাদের বেশ ভালোই  খোশামোদ করা হলো ওই ভদ্র মহিলার বাড়িতে। আমরা জানতে পারলাম উনি জার্মান Embassy তে কাজ করেন। উনি ভারতে ও পোস্টিং নিতে চেয়েছিলেন কিন্তু ওমেন সেফটি এর দুরাবস্থা থেকে ভয় পেয়ে যাননি। ভদ্রমহিলার স্বামী একটা হোটেল এ কাজ করেন।  আর তাদের এক সুন্দর মেয়ে ও এক মিষ্টি ছেলে আছে। 
আমাদের একটা ড্রিংক এর সাথে অভ্যর্থনা এর পর, আমাদের কে নির্দেশ দেওয়া হলো ওদের বাচ্চাদেরকে একটু লুকিয়ে অন্যমনস্ক রাখার। আমরা খুব ভালোই তা করলাম। তারপর আমরা বাচ্ছাদের লিভিং রুমে আনলাম আর দেখলাম Mr  Santa  এসে পড়েছেন। আর তিনি একের পর এক গিফট এর প্যাকেট বের করে দিচ্ছেন, আর ওই দুটো মিষ্টি বাচ্চার খুশি উপচিয়ে পড়ছে। এরপর আমাদের ডিনার পরিবেশন করা হলো, অনেক কিছু ভালো ভালো স্ক্রিস্টমাস স্পেশাল ছিল, অনন্যা আর নেহা দুজনেই ভেজিটেরিয়ান সেজন্য ওদের জন্য খুব কম ই অপসন ছিল। যাইহোক, আমার তো সবথেকে বেশি ভালো লেগেছিলো ড্রিংকস যেটা কে বলে Eggnog. ওনারা দেখলাম আমাদের আনা ভারতীয় খাবার বেশ খেলেন! 

আমাদের অনেক্ষন কথোপকথন হলো, ভদ্রমহিলা খুব ই জ্ঞানী আর ওপেন মাইন্ডেড মনে হলো। উনি আমাদের থেকে ভারতীয় সংস্কৃতি জানলেন, আর আমরা জার্মানি এর গল্প শুনলাম। আমরা জানতে চাইলাম ওই Santa  কে হয়েছিলেন, উনি বললেন ওনার স্বামীর কোনো দূর সম্পর্কের আত্মীয় যার কেউ নেই, তো ওনারা ওই ভদ্রলোক কে নেমতন্ন করেছেন। শুনে আমার আরো বেশি ভালো লাগতে শুরু করলো। উনি ইটা ও বললেন , এই খ্রীষ্টমাস একদিকে যেমন বেশ মাজার সময়, হয় হুল্লোড় আর সেলেব্রেশন। ফ্যামিলি রিইউনিয়ন, ইত্যাদি। কিন্তু অন্যদিকে এটি বেশ শক্ত সময়, ঐসব সিঙ্গেল পারসন households, যারা বিয়ে করেনি একা থাকে তারা এই সময় ফ্যামিলি মিস করে, শোনা যায় এই সময় তা ইউরোপ এ সবথেকে বেশি আত্মহত্যা করার সময়! 

আমার আর একটা কথা বেশ মনে আছে, উনি বলেছিলেন, আমরা জার্মান রা আইন মেনে চলতে খুব ভালোবাসি। আর কথায় কথায় বার্লিন এর টেররিস্ট এটাক এর কথা উঠলো, কারণ তার আগের বছর এখানে খৃস্টমাসের সময় বার্লিন এর এক খ্রীষ্টমাস মার্কেট এ কোনো এক ইডিয়ট বাস চালিয়ে দেয় mob  এর মধ্যে। অনেক লোক আহত হয় তাতে। খাওয়ার পর আমি ওই ভদ্রমহিলার ছেলের সাথে অনেক্ষন খেললাম , ওই রেল গাড়ি বানানো আর চালানোর খেলা।
তারপর অনেক রাত হলো আর আমরা বেরিয়ে পড়লাম। মাঝরাতে খ্রীষ্টমাস ক্যারোলে গাওয়ার জন্য বার্লিনার dome  এ পৌঁছালাম।  ইটা আমার বেশ ভালো লাগে, স্পষ্ট মনে আছে ২০১১ এর কথা. সেদিন খ্রীষ্টমাস লন্ডন এ সেলেব্রেটি করার সৌভাগ্য হয়েছিল। Thanks  to  my  ex .  যাইহোক, সেদিন লন্ডন এর St  Pauls  Cathedral এ ২৪সে ডিসেম্বর এ রাত ১১ তা থেকে লাইন দিতে হয়েছিল ভেতরে জায়গা পাওয়ার জন্য। সে এক অপূর্ব অভিজ্ঞাতা। আমরা ঢুকে এক জায়গাই বসেছিলাম আর আমাদের কে খ্রীষ্টমাস ক্যারোলে এর প্রিন্টআউট দেওয়া হয়েছিল, আমি যদিও ধার্মিক নোই কিন্তু এইসব সময়ে এইসব জিনিস আমাকে বেশ অভিভূত করে। যাইহোক এবারে ও আমি হতাশ হয়নি, যদিও এখানে একটু সমস্যা হলো ক্যারোল টা জার্মানে  গাওয়া।কিন্তু ওই পরিস্থিতি ওই মহল সব যেন একইরকম। বেশ ভালোলাগা নিয়ে ফেরত যাচ্ছিলাম। ফেরার পথে ডোম এর একটা লং এক্সপোজার শট ও নেওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। 

পরের দিন এদিক ঐদিক করে কাটালাম, এই বার্লিন এর গেট, জিউস  সেমেটারি ইত্যাদি। ২৬ শে  আমি এক দিনের ডে ট্রিপ এ পোটসডাম  গেছিলাম বার্লিন থেকে ট্রেন এ এক ঘন্টার রাস্তা। আমার তো বেশ ভালো লেগেছিলো। আসলে মিউনিখ এর মতো ছোট শহরে থাকতে থাকতে আমার এই ছোট শহর গুলো বেশ পছন্দ। পটসডাম এর ওল্ড মার্কেট স্কয়ারে, Sanssouci Palace, Cecilienhof আর Museum Barberini, Historic Mill of Sanssouci এইসব দেখার জায়গা গুলো দেখলাম।  
আমার পরের গন্তব্য হলো Belgium. 

  
To Paris via Belgium

প্রায় প্রত্যেক বাঙালির স্বপ্ন থাকে ভালোবাসার শহর প্যারিস নিয়ে। আমার ছিল, এখনো আছে। 
Bruges market
তারিখ তা ২৭ সে ডিসেম্বর ২০১৬। আমি অন্ধকারে বাস এর ভিতর বসে ভাবছি মগ্ন হয়ে।  কিভাবে গত দিন কেটে গেলো বোঝাই গেলোনা। আমার বাস ছুটছে কুয়াশা এর ভেতর দিয়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশের  সীমানা পেরিয়ে। কালকে ছিলাম Brussels যেটা বেলজিয়াম এর রাজধানী। আজ ঢুকে গেলাম ফ্রান্স , প্যারিস এর পথে চললাম। মনে পড়ছে এই যে বন্ধুর কাছে ছিলাম গত দু দিন, দেবেশ সে উত্তর প্রদেশ এর ইলাহাবাদ এর ছেলে। আমরা একসঙ্গে মাস্টার্স করি JNU তে. পড়েছিল Biotechnology আর আমি Life Science.  তাতে কিছু যায় আসে না, আমরা এক হোস্টেল থাকতাম। সেটা প্রায় ১০-১২ বছর আগেকার কথা।  এখন বসে বসে ভাবি, এই দেবেশ কি সেই দেবেশ ! নাকি অন্য কেউ ! সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে গেছে।

Canal in Bruges
যে ছেলে কখনো মদ খেতো না, সে আমাকে এক রাতে tin তিনটে bar e নিয়ে গেলোবেলজিয়াম বিয়ার আবার পৃথিবী বিখ্যাত তাই আমি আর না করতে পেরেছিলাম না 
কথায় কথায় সে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল আমি হুইস্কি খাই কিনা, আমি বলেছিলাম আমার পছন্দ নয়  তখন সে জিজ্ঞেস করেছিল কোন হুইস্কি আমি খেয়েছিআমি বলেছিলাম ওই রয়েল স্ট্যাগ, অফিসার্স চয়েস ছাড়া এক আধবার ব্লেন্ডার্স প্রাইড চেখে দেখেছিলাম, আর সেটা ঠিকঠাক লেগেছিলো
Reflection of building on the water of the canal
তখন সে বাড়ি ফিরে আমাকে গ্লাস বোতল নিয়ে বসে গেলোসে আমাকে দুধরনের হুইস্কি খাওয়ালো একটা স্মোকি, তার নাম ছিল লেফ্রয়য়গ আর দ্বিতীয়টা হলো অর্ডবেরগ ১০ বছরের পুরানোআজ আমার বাড়িতে ওই দুটো হুইস্কি সব সময় পাওয়া যাই  আমি আসলে হুইস্কির একটা মস্ত বড় ফ্যান হয়ে গেছিতাইতো গতবছর যখন স্কটল্যান্ডে গেলাম ১০০ পাউন্ড  দিয়ে একটা হুইস্কি আনলাম, তার প্যাকেটটা এখনো রেখে দিয়েছি, গ্লেনলিভেট নাদুরা , অসাধারণ একটা , একবার খেলে বারবার খেতে ইচ্ছে করে, হয়তো আবার কখনো হবে ভবিষ্যতে। রাত্রে ব্রুসেলস এর রূপ দেখলাম। অপরূপ ভাবে সজ্জ্যিত। খ্রীষ্টমাস নিউ যার এর সময় সেটা স্বভাববিক ইউরোপ এর প্রতিটি জায়গার ক্ষেত্রে। কিছু কিছু বারো বাড়িতে আলো  আর শব্দের খেলা চলছিল। 
A bridge in Bruges, long exposure
Belgium beer
পরের দিন day trip  এ Bruges এ গেলাম। আমার কাছে বেলজিয়াম বলতে সবার আগে মনে আসে এই ছোট্ট শহরটির কথা।  কেননা, এটি আমি সিনেমা তে দেখেছিলাম অনেকদিন, নামটা হলো 'In Bruges'. অনেকবার দেখেছিলাম ওই ক্রাইম সিনেমাটা। আর তখন থেকেই এই শহরটার একটা ছবি আকাঁ ছিল আমার মনে।   দুর্ভাগ্যবশত খুব মেঘলা দিন ছিল, কিন্তু একটা জিনিস আমার নজর কেটেছিল তা হলো সেখানে প্রচুর ইংরেজি বলা লোক , খুব সম্ভবত সবাই তারা ট্যুরিস্টস।মার্কেট এ কি সুন্দর রং বেরঙের বাড়ি। আর ওই Belfry of Bruges ও দেখলাম কিন্তু মেঘলা থাকার জন্য তার ওপরে উঠলাম না কেমননা কিছুই দেখতে পারতাম না। অপূর্ব সব ক্যানেল গুলোর উপর বাড়ির প্রতিচ্ছবি পড়ছিলো। বেশ ভালোলাগছিলো। ওই ক্যানেল  গুলোয় অনেক লোক নৌকায় করে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। সব খুব ট্যুরিস্টিক ব্যাপার।এইসব দেখতে দেখতে সন্ধ্যে হয়ে এলো। অন্ধকার মেঘলা আকাশ থেকে রাতের অন্ধকার আরো আধার এনে দিলো। আমরা খেতে ঢুকলাম একটা বেশ ভালো রাষ্ট্র্যাউন্ট।  খাবার এর থেকে আমার বেশি ড্রিঙ্কস ই পাঁচন্দ আর মনেও থাকে। সেখানেও আমরা বেলজিয়াম বিয়ার খেলাম। তারপর আবার ব্রুসেলসএ ফিরলাম। ফিরেই আমার বন্ধুর সব হুইস্কি গুলো চাখলাম আর আমার Laphroaig বেশ পছন্দ। পরেরদিন সকালে আমি বাস নিলাম প্যারিস এর উদ্দেশে।  দেবেশকে bybye করে দিলাম।

..........

ভাবতে ভাবতে আমার বাস আমাকে পৌঁছে দিল প্যারিস এর কেন্দ্রীয় বাস স্টেশনে। সেখান থেকে একটু এদিক ঐদিক করে শেষ পর্যন্ত পৌঁছালাম আমার থাকার জায়গায়। যদিও এমি AIRBNB করেছিলাম কিন্তু পৌঁছে দেখলাম সেটা একটা হোস্টেল এর মতন, হয়তো এখানে ট্যাক্স কম দিতে হয় AIRBNB তে হোস্টেল এর তুলনায় বা ঝঞ্ঝাট কম । যাইহোক খুব খারাপ নয় । এক বয়স্ক লোক আমাকে বুঝিয়ে দিলো নিয়মকাকনুন আর ব্রেকফাস্ট কোথায় পাওয়া যাবে,তারপর দেখলাম বেশ কিছু চীন দেশীয় তরুণ তরুণী আছে আমার সাহবাসী হিসেবে। পরিচয় কারো হয়ে গেলো। তারপর ঘুমাবার পালা। এবারে দেখে নিলাম কাল কোথায় যাবো। সকালে উঠে ব্রেকফাস্ট করেই বেরিয়ে পড়লাম। ঠান্ডা কম নয়।  আগে ভাবিনি প্যারিস এ এতো ঠান্ডা হবে তাই শুধু একটা leather জ্যাকেট নিয়ে গিয়েছিলাম। প্রথম দিন শুধু রাস্তা ঘাট দেখার পালা। আর আমার এক JNU এর সিনিয়র এর সাথে দেখা করার। সে শ্রীলংকার মেয়ে বেশ কিছুদিন হলো প্যারিস এ আছে ! সে ও পোস্টডক করছে, JNU থেকে PhD করার পর। 
River Seine
শহর ঘুরতে বেরিয়ে Châtelet মেট্রো স্টেশন এ এসে দেখি এক কান্ড।.. বাপ্ রে বাপ, এটা একটা মেট্রো স্টেশন না ময়দান এর মাঠ।  এতো বড় স্টেশন আর এত কমপ্লেক্স জায়গা আগে জানতাম না।

যাইহোক আমার ওই এক্স সিনিয়র এর সাথে দেখা করলাম । অনেক ইউনিভার্সিটিএর কথা।  নস্টালিজিয়া আর কি; তারপর ওর থেকে জেনে নিলাম আইফেল টাওয়ার যাওযার সহজ রাস্তা তা কি।  আর কথা থেকে বেশি ভালো ভিউ পাওয়া যাবে।  সে আমাকে খুব ভালো করে বুঝিয়ে দিলো।
Monalisa
Restaurant inside the famous Louvre Museum
সে আমাকে নিয়ে হাঁটতেও থাকলো।  আর আমরা নটরডেম এরিয়া তা হেটে নিলাম আমি কিছু লং এক্সপোজার এর শট ও নেওয়ার চেষ্টা করলাম।
পরের দিন সখুব সকালে যাওয়ার প্লান্ করে ফেললম্। যদিও দেখলাম আবহাওয়া খুব একটা সুবিধের নয়। আমি বীর হাকেম বলে M৬ লাইন এ নেমে গেলাম আর হাটতে থাকলাম। আমার এতো দুর্ভাগ্য যে আকাশ ভাড়া মেঘ আর কুয়াশা। কোনো এল নেই.  এতো তাই ভাগ্য খারাপ যে আইফেল টাওয়ার এর চূঢ়া দেখতে পেলাম না :( .  যাইহোক ভালোই হাটলাম আর মনের ভেতর একটা ফুরফুরে আনন্দে নিয়ে ঘুরতে থাকলাম ভুলতে চেষ্টা করলাম যে আমি পুরো আইফেল টাওয়ার দেখতে পাইনি।

Notre Dame Cathedral at night
Notre Dame insight
Foggy La tour Eiffel 
হাটতে হাটতে পৌঁছে গেলাম প্রায় নটরডেম ক্যাথেড্রাল এর কাছাকাছি। আজ লিখতে বসে Notre Dame এর কথায় আমার যেন মন খারাপ করতে লাগলো, কেননা কিছুদিন আগে এই স্পেশাল ক্যাথেড্রাল এ আগুন লেগে গেছিলো। এখন সেটা ঠিক করে দিলেও ওই দিনটিতে সারা বিশ্বের লোক শোক পালন করছিলো প্যারিস কুইন এর জন্য।এখানেও লং এক্সপোজার এর কিছু শট নিলাম আর Notre  Dame  এর ভেতরে গিয়ে দেখলাম তার রূপ আরো অনেক অনেক বেশি। 
Selfie King
পরের দিন সকালে সূর্যোদয় দেখতে আইফেল টাওয়ার এ যাওয়ার প্ল্যান। যদিও আবহাওয়ার পূর্বাভাস খুব ভালো ছিল না, তাও আমি যাওয়ার ই স্থিতি করে র্রাখলাম, যদি ভালো হয় আবহাওয়া তালে মিস হবে না, সূর্যোদয় টা।  সকল বেলা উঠে পৌঁছেগেলাম গন্তব্যস্থলে, কিন্তু আবহাওয়া দফতর ভুল বলেনি। খুব কুওয়াসা আর মেঘলা আকাশে চারিদিক প্রায় অন্ধকার। তার মধ্যেই হেটে চললাম আর অপেক্ষা করতে থাকল আকাশ পরিষ্কার হওয়ার। না হলো না.. এতটা খারাপ আবহাওয়া যে ৯/১০ তা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও আমি আইফেল টাওয়ার এর মাথা পর্যন্ত ঠিক দেখতে পেলাম না :( . যাইহোক, একটা কফি খেয়ে আমি হাটতে শুরু করলাম। Seine  নদীর দির ধরে লৌভরে মুসিয়াম কে বাম দিকে  রেখে আমি পৌছালাম Notre Dame  ক্যাথেড্রাল পর্যন্ত। সেটা বেশ ভালো একটা অভিজ্ঞতা।


সেখান থেকে আমি পৌঁছালাম Luxembourg Gardens এ. এই বাগান এ যেটা আমার সবথেকে বেশি নজর কাটলো সেটা হলো একটা স্টাউট যেটা মনে হবে একটা সেলফি তুলছে। আমি ফটো টের নাম দিলাম সেলফি কিং। প্যারিস এর রাস্তায় হাটতে হাটতে আমি একটা জিনিস খুব ভালোই বুঝলাম, এক আসাটা হয়তো খুব বেশি বুদ্ধিমান এর কাজ না।  এই শহরটা ঠিক এক ঘোরার নয়। সব জায়গায় লোক খুব খুশি, সন্তুষ্ট। আর loving.
Unknown church 
Basilique du Sacré of Montmartre
আমি খুব বড়ো একটা মুসিয়াম ফ্যান নোই।  কিন্তু প্যারিস, লন্ডন বা নিউ ইয়র্ক এর কথা আলাদা। তো আমি প্যারিস এর ড়"ওরসে আর লৌভরে প্রায় দুই দিন কাটালাম। আসলে এতো মুগ্ধ হয়ে দেখছিলাম যে বুঝেই উঠতে পারিনি সময় কথা থেকে কোথায় বেরিয়ে গেলো।  শুধু লৌভরে Monalisa এর সাথে সেলফি নেওয়ার লাইন দেখে বুঝলাম সেখানেই অর্ধেক দিন কাটে লোকের।
Eifel Tower
পরের দিন গেলাম Montmartre এ  যেটা ১৩০ মিটার উচ একটা হিল যেখান থেকে শহরের একটা বেশ ভালো ভিউ পায় যায়। কিন্তু আমার তো ভাগ্য খারাপ। এই মেঘলার দিনে বেশি কিছু পাওয়া গেলোনা। আপাতত Basilique du Sacré  তা দেখা গেলো। আর আমি তাতেই খুশি ছিলাম। তার উপর ওই আরেকটা তে হাঁটা টাও  খুব মাজার ছিল।
Street of the Arc de Triomphe
মনে আছে সেই সিনেমা Amélie? যেটা প্যারিস এর বিভিন্ন জায়গায় বেসড করে করা হয়েছিল। ওদের মধ্যে একটা ছিল Montmartre, সেটার কথা তো আগেই বললাম। এখন বলি সেই এপিক The Lepic street এর কথা।  সিনেমাতে Amélie Poulain ওই স্ট্রিট এ যেত। আর ওই স্ট্রিট এ Café des 2 Moulins এ Waitress এর কাজ করতো। আর ওখানে গ্রোসারিও করতো। সেটা আজ থেকে ১৮ বছর আগের কথা।  এখন অনেক কিছু বদলে গেছে কিন্তু সেই grocery টা আছে।  আর সেটা একটা মুসিয়াম এর মতো, প্রচুর লোক আসছিলো দেখতে। এন্ড নিশ্চই, আমি একজন তাদের মধ্যে। তারপর সেদিন আমি ডিনার করতে গেলাম একটা স্পেশাল ক্রেপে এর দোকানে। সেটা সত্যি বেশ ভালো ছিল, ক্রেপের সাথে কত ধরণের একসেসোরিজ।
Arc de Triomphe

এমন করে দেখতে দেখতে নিউ ইয়ার্স ইভ  এসে দাঁড়ালো। আর আমি ভাবলাম আমি হয়তো এইফালে টাওয়ার এর চূড়াটা এইবার দেখতে পাবো। ঠিক করলাম ওখানেই যাবো fire  work দেখতে। সাড়ে এগারোটা নাগাদ পৌঁছেও গেলাম, অনেক কিছু দেখলাম, বেশিরভাগ লোক ই কোপালে, তারা অনেক কিছু এনেছে , মোদের বোতল বা কামশেকাম বিয়ার। আর আমি ক্যামেরা ও ট্রাইপড হাহা! আমি ক্যামেরা ট্রাইপড সেট করে অপেক্ষা করতে থাকলাম, আর লোক মোদের বোতল খুলে। বারোটার এক মিনিট আগেও কোনো পরিবর্তন নেই।  বারোটার পরেও নেই।এরা  এখানে কোনো বিশেষ ব্যবস্থা নেয়নি। আমি কি যে দুঃখ পেলাম কি বলবো :( ... কিন্তু কি আর করা যাই ওই সাধারণ আলোতে কিছু ফটো তুললাম আর তারপর হাতে লাগলাম, পৌঁছালাম Arc de Triomphe. আর সেখানে দেখলাম বেশ কিছু লাইট এর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এইসব দেখতে দেখতে ভাবতে লাগলাম আমার ছুট্টি শেষ।  হাহা কালকে back to the basic life :P











No comments:

Post a Comment